শুক্রবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

| ২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
০৬:২৩, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

লাগামহীন বাজার : মধ্যবিত্তের সাধ্যে সিন্ডিকেটের আঘাত

প্রকাশের সময়: ০৬:২৩, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

লাগামহীন বাজার : মধ্যবিত্তের সাধ্যে সিন্ডিকেটের আঘাত

ফ্যামিলি কার্ডে টিসিবির পণ্য নিতে হুড়োহুড়ি( ফাইল ছবি)

ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ধাপে ধাপে সকল পণ্যের দর প্রায় দ্বিগুণের বেশিতে স্থিতিশীল। এরপরও দর বাড়ানোর চেষ্টা যেন থামছে না। বেশকিছু পণ্যের দর বাড়ানোর জন্য ‘সিন্ডিকেট’কে দফায় দফায় দায়ী করলেও দোষীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো আইনগত ব্যবস্থা। ফলে তারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাগামহীন বাজারকে মধ্যবিত্তের সাধ্যের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে ক্রেতাসহ বিশিষ্টজনরা।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত বছর এ সময়ে সাধারণ মানের চালের দাম কেজি প্রতিতে ৪৮ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কেজি প্রতি হিসেবে ৩০ টাকার আটা ৫০ টাকায়, ১২৯ টাকার সয়াবিন তেল (লুজ) ১৭২ টাকায়, ১৪০ টাকার সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকায়, ৮৫ টাকার মোটা দানার মুসুর ডাল ৯৮ টাকায়, ৫০ টাকার রসুন ৭০ টাকায়, ১৫০ টাকার শুকনা মরিচ ৩৪০ টাকায়, ১৩০ টাকার হলুদ ২২০ টাকায়, ১২০ টাকার আদা ১৫০ টাকায়, ৩০০ টাকার জিরা ৪৬০ টাকায়, ৬২০ টাকার গুড়ো দুধ ৭৮০ টাকায়, ৭৫ টাকার চিনি ১০০ টাকায়, ২৫ টাকার লবণ ৩৫ টাকায়, ৩৭ টাকার ডিমের হালি ৫০ টাকায়, ১৮০ টাকার রুই মাছ ২৫০-৩০০ টাকায়, ১৩০ টাকার ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ নিয়ে কথা হয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইনের সঙ্গে। তিনি বলেন, "দাম বাড়া-কমার খেলা দিয়ে দাম বাড়ানোর খেলাটা সরকারের সামনেই হয়েছে। কিন্তু সরকার নির্বিকার। বাজার নিয়ে প্রশাসনের যেখানে তৎপর হওয়ার কথা সেখানে তারা চুপচাপ থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাচ্ছে।'

বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত এক বছরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া মাঠে  আর কাউকে দেখা যায়নি। জেলা প্রশাসন বাজার দেখার সময় পাচ্ছে না। অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে নীরব দেখলে তারা সুযোগ কাজে লাগাবেই। তাই সরকারকে এই জায়গায় আন্তরিক হতে হবে। যদি সরকার আন্তরিক হয়ে অপরাধীর দলীয় ও ব্যক্তিগত পরিচিতিকে উপেক্ষা করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে তা অনেকটুকু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।'

বাজারের প্রায় সকল পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অর্থনীতিবিদ ও ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য্য অধ্যাপক ড. সেকান্দর খান বলেন, "মধ্যবিত্ত বলে এখনতো আর কেউ নেই। যারা ছিলো তাদের বেশভূষায় গরিব বলে হয়তো মনে করছেন না। প্রায় সব জিনিসের দাম যেভাবে বেড়েছে তাদের বেতন বা উপার্জন সেভাবে না বাড়ায় তারা অনেককিছু মিনিমাইজ (কমিয়ে) করে কোনোরকমে বেঁচে আছে। এছাড়া যারা মোটামুটি স্বচ্ছল তারাও সব পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। অর্থনীতির ভাষায়, মানুষকে সঞ্চয়ী হতে হয়। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে মানুষ সঞ্চয় ভাঙছে।'

সার্বিক পরিস্থিতি ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করে কথা হয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছি। যেমন ছয়টি পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা প্রাথমিকভাবে এক কোটি পরিবারকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখন নিয়মিত তারা এ সুবিধা পাচ্ছে। এতে এক কোটি পরিবার বাজারের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য কিনতে পারছে। এছাড়া সরকার আগামী সপ্তাহে নয়টি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিবে। এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ীরা যে সুযোগটা নিচ্ছে তা আর নিতে পারবে না।


 

এসবি/কেডি