শনিবার ২৫ জুন ২০২২

| ১০ আষাঢ় ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২০:১৪, ১৯ জুন ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

পানিতে ‘ডুবছে’ বেচাকেনা, পুঁজি বাঁচাতে ঋণের জালে চকবাজারের দোকানিরা

প্রকাশের সময়: ২০:১৪, ১৯ জুন ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

পানিতে ‘ডুবছে’ বেচাকেনা, পুঁজি বাঁচাতে ঋণের জালে চকবাজারের দোকানিরা

কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকাগুলো। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে এসব এলাকার দোকানগুলো পানিতে থৈ থৈ করছে। এমন পরিস্থিতিতে এবারও বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় আছেন চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা। গত শুক্রবার থেকে টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে চরম বিপাকে পড়েছেন এই এলাকার ব্যবসায়ীরা। 

তারা বলছেন— এলাকাটির জলাবদ্ধতার করুণ চিত্র গত এক দশকের বেশি সময় ধরে হলেও গেল ৫ থেকে ৭ বছরে তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতি বছরই বাড়ছে পানির উচ্চতা। অনেকক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকান, মার্কেট, ঘরবাড়িতে জমে থাকা পানি বের করতে হচ্ছে পাম্প দিয়ে। 

ভরা বর্ষার এই ভোগান্তিতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর মোস্তফা টিনু ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। 

রোববার (১৯ জুন) সরেজমিন চকবাজার ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই দোকানে তালা ঝুলিয়ে চলে গেছেন। যারা এসেছেন তারা ব্যস্ত আছেন জোয়ারের পানি নিষ্কাশনে। আধুনিক চক সুপার মার্কেটে ব্যবসায়ীরা তিনটি পানির পাম্প দিয়ে পানি সেচ দিচ্ছেন। তার পাশের মান্নান মার্কেটে তখনও জমে আছে কোমর সমান পানি। মার্কেটের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা। গত দু’দিন ধরে ময়লা পানির সঙ্গে বিভিন্ন গলির মোড়ে জমে আছে ময়লা-আর্বজনার স্তূপ। এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কিংবা চসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কোনো কার্যক্রমে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। 

মান্নান মার্কেটের ব্যবসায়ী ফারুক মহানগরনিউজকে বলেন, প্রায় দুই দশক আগে চকবাজার এলাকায় একটি দোকান দেন তিনি। তখন ভালোই চলছি বেচাকেনা। কিন্তু গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে বৃষ্টি হলে চরম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে মার্কেটটিতে। পরিস্থিতি এখন এতটাই বেগতিক, ব্যবসায়ের পুঁজি বাঁচাতে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি।

ফারুক একা নন— চকবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গত ৫ থেকে ৭ বছরে এলাকাটির সিংহভাগ দোকানি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। একইভাবে আধুনিক চকসুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। মার্কেটের নিচতলার ৬০টি দোকানের সবক’টি দোকানি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

দোকানি জাবেদ হোসেন মহানগরনিউজকে বলেন, গত বছর বর্ষার তিন মাসে ১২ বার গলা সমান পানিতে দোকানে ডুবেছে। এবার এখনও পর্যন্ত দুই বার পানি ঢুকেছে। ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা লোন নিয়েছি। বর্ষার তিন মাস দোকান ভাড়া, স্টাফ খরচ কোনো কিছুই থেমে থাকে না। অথচ বেচাকেনাও নেই।

বর্ষায় পানির পাম্প খরচ, পরিচ্ছন্নতার জন্য খরচসহ বিস্তর ভোগান্তির কথা তুলে ধরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী মহানগরনিউজকে বলেন, ড্রেন ও নালা পরিষ্কার হয়নি অনেকদিন। গত শুক্রবার পানিতে ময়লা উঠে সড়কে জমে আছে। সেগুলো স্তূপ করে দিয়ে গেছে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। আমাদের পকেটের টাকা খরচ করে সেগুলো সরাতে হবে। কাউন্সিলরকে বলেও লাভ নেই।

বাসিন্দাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন কল রিসিভ করেননি নূর মোস্তফা টিনু। এ কারণে তার বক্তব্য জানা যায়নি। অন্যদিকে ওয়ার্ড সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি মহানগরনিউজকে বলেন, বৃষ্টির মধ্যেই আমাদের কাজ চলমান আছে। কাউন্সিলর যেখানে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেখানেই আমরা কাজ করছি। সবুজ হোটেল সংলগ্ন খালটি আজকে পরিষ্কার করা হয়েছে।

চকবাজার এলাকায় শুক্রবার থেকে ময়লা পরিষ্কার না হওয়ার ফুটেজ মহানগরনিউজের কাছে আছে— এমন তথ্য জানানো হলে উত্তরে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে আমরা দলগতভাবে কাজ করি। যারা নালা থেকে ময়লা পরিষ্কার করে তাদের শুক্রবার বন্ধ ছিল। এখন কাজ চলছে।

এপি/জেডএইচ