শনিবার ২৫ জুন ২০২২

| ১০ আষাঢ় ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২২:০৪, ২৩ মে ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবলীগ নেতার ‘মারমুখী’ সমর্থক—রেডিসন ব্লুতে হাতাহাতি, বাইরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

প্রকাশের সময়: ২২:০৪, ২৩ মে ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবলীগ নেতার ‘মারমুখী’ সমর্থক—রেডিসন ব্লুতে হাতাহাতি, বাইরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বেড়েছে উচ্ছ্বাস-উত্তেজনা। ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার, প্ল্যাকার্ড আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়। 

তবে সম্মেলনের আগেই দুই পদপ্রত্যাশী নেতার অনুসারীরা জড়িয়েছেন হাতাহাতি ও মারামারিতে। বিবাদে জড়ানো এই ‘মারমুখী’ সমর্থকরা নগর যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী আরশাদুল আলম বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকীর অনুসারী। 

দুজনের মধ্যে আরশাদুল আলম বাচ্চু নগরীর ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের জিএস ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনোনীত হন। তিনি সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। অন্যদিকে নগরীর সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিকী নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। 

রোববার (২২ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বড় কোনো সংঘর্ষ না হলেও একপক্ষের অনুসারীদের ধাওয়া দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ মহানগরনিউজের হাতে এসেছে।

নগর যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শেখ ফজলে নাঈম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ চট্টগ্রামে আসেন। এই দুই নেতা গাড়ি নিয়ে নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে ঢোকার সময় প্রায় দুইশ’ যুবলীগ নেতা-কর্মী হোটেলের লবিতে জড়ো হন। এসময় জড়ো হওয়া বিভিন্ন নেতার অনুসারীদের হাতে ছিল তাদের নেতার নামে প্ল্যাকার্ড। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ছিলেন যুবলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী আরশাদুল আলম বাচ্চু, এম আর আজিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকীর অনুসারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নেতা মহানগরনিউজকে বলেন, শেখ নাঈম ও সোহাগসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হোটেলের লবিতে আসলে একশ’র বেশি যুবলীগ কর্মী কর্তৃপক্ষের নিষেধ অমান্য করে সেখানে ঢুকে পড়ে। এসময় প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরে যুবলীগ কর্মীরা তাদের অবস্থান জানান দেয়। একপর্যায়ে প্ল্যাকার্ড নামাতে বলায় আরশাদুল আলম বাচ্চু ও আবু বক্কর সিদ্দিকীর অনুসারীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হোটেলের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরা দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে সেখান থেকে রাস্তায় বেরিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।   

এদিকে মহানগরনিউজের হাতে আসা দুই পক্ষের হাতাহাতি ও উত্তেজনার ভিডিওতে দেখা যায়, হোটেলের লবি থেকে উত্তেজিত দুই নেতার অনুসারীদের বের করে দিলে মূল সড়কে ফের বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তারা। 
 
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রেডিসন ব্লু চিটাগাং বে ভিউ হোটেলের জনসংযোগ কর্মকর্তা রাহফাত সালমান বলেন, গতকাল (রোববার) রাতে কিছু উৎসুক জনতার মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হোটেলের নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের সরিয়ে দেন।
 
তবে এ ঘটনার বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি নগরীর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবীর। তিনি বলেন, আমরা সেখানে এমন কোনো ঘটনার খবর পাইনি।

এ বিষয়ে জানতে আরশাদুল আলম বাচ্চুকে একাধিকবার ফোন করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরেক পক্ষের নেতা আবু বক্কর সিদ্দিকী মহানগরনিউজকে বলেন, এটা তেমন বড় ঘটনা না। একটা জায়গায় একাধিক কর্মী জড়ো হলে কথাকাটাকাটি হতে পারে। গতকাল ছোটদের মধ্যে এরকম ঘটনা ঘটেছে। এখানে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বাচ্চু ভাই আমার সিনিয়র নেতা। ওনার কলেজ আর আমার কলেজ আলাদা। তবে এখানে প্ল্যাকার্ড ধরা নিয়ে তেমন কোনো কিছু ঘটেনি। 

এইচবি/জেডএইচ