শুক্রবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

| ২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৬:০৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাতের ট্রেনে বাতি জ্বলে না, ফ্যান ঘোরে না বহুদিন

প্রকাশের সময়: ১৬:০৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাতের ট্রেনে বাতি জ্বলে না, ফ্যান ঘোরে না বহুদিন

ট্রেন স্টেশন ছাড়তেই যাত্রীদের মনে শঙ্কা জাগে এ বুঝি চোর-ডাকাতের কবলে পড়ল তারা। একে তো প্রচণ্ড গাদাগাদি, তারওপর তীব্র গরম। ট্রেনে ফ্যান চলছে না দীর্ঘদিন। জোনাকির আলোর মতো এই নিভে, এই জ্বলে বাতি। চলন্ত ট্রেনে আলো আধারির এ খেলায় চুরি-ডাকাতি, খুনোখুনি কিংবা দুর্ঘটনার কবলে পড়ার শঙ্কায় ভোগেন যাত্রীরা। 

যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনে জেনারেটর না থাকায় পুরো সেপ্টেম্বরজুড়ে অন্ধকার অবস্থায় ঢাকা থেকে নোয়াখালী রুটে চলাচল করছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। 

প্রায় এক মাস ভয়াবহ এ পরিস্থিতির পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে—  জেনারেটর সংকট নয়, ওই ট্রেনে রেলওয়ের টেম্পোরারি লেবার রিক্রুট (টিএলআর) স্বল্পতার কারণে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ঢাকা/নোয়াখালী এক্সপ্রেসে যে দু’জন টিএলআর দায়িত্বে আছেন তারা চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। তবে টিএলআরদের সমস্যা সমাধান করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনে সহসাই জেনারেটর চালুর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, গেল ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা-নোয়াখালী রুটের যাত্রীবাহী ট্রেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয় জেনারেটর ব্যবস্থা। পরে যাত্রীবাহী কোচ ও চালকের কোচে একটি ব্যাটারি দিয়ে বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ব্যাটারির সক্ষমতা কম থাকায় শুধুমাত্র গার্ডব্রেকে (পরিচালকের কক্ষে) বাতি জ্বালানো হচ্ছে। কিন্তু কোন বগিতেই ফ্যান চালানোর ব্যবস্থা না থাকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ রেলওয়ে স্টাফরাই। 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ট্রেন পরিচালক মহানগর নিউজকে বলেন, যখন জেনারেটর বন্ধ করে ব্যাটারি দেওয়া হয়েছিল, তখন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল দুই একদিনের মধ্যে জেনারেটর দেওয়া হবে। কিন্তু একমাস হতে চলল তাও জেনারেটর দিচ্ছে না। এখন যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি টিএলআর স্বল্পতার কারণে এমনটা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ওই রুটে চলাচলাকরী ট্রেনগুলোতে ঢাকা/নোয়াখালী এক্সপ্রেস জোড়া ট্রেনে জেনারেটর পরিচালনার দায়িত্বে আছেন অনিক ও বিষু নামের দু’জন টিএলআর। টানা চার-পাঁচ মাস ধরে তাদের বেতন হয় নি। পরে সংকটের মুখে ৬ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী  এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে জেনারেটর নামিয়ে ফেলা হয়। 

ওই ট্রেনে দায়িত্বরত স্টাফরা বলছেন—ট্রেনটি সন্ধ্যার পরে চলাচল করে। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য সব বগিতে বাতি জ্বালানো যাচ্ছে না। ট্রেন ছাড়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অন্ধকারে ট্রেনটি চলাচল করছে। তবে দুর্ঘটনারোধ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় শুধুমাত্র গার্ড ব্রেকে সার্বক্ষণিক বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

ওই রুটের যাত্রী, নোয়াখালীর বাসিন্দা নেওয়াজ মহানগর নিউজকে বলেন, চাকরি ঢাকায় হওয়ার কারণে প্রতি সপ্তাহে ওই ট্রেনে বাড়ি ফিরি। দুই-তিন সপ্তাহ ধরে ট্রেনে বাতি জ্বলছে না। তীব্র গরম তো আছেই, সাথে চুরি-ডাকাতির ভয়ে গতকাল (শুক্রবার) বাসে ফিরেছি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী অজয় কুমার পোদ্দার মহানগর নিউজকে বলেন, টিএলআর নিয়ে একটু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় জেনারেটর দেওয়া যাচ্ছে না। এর বদলে ব্যাটারি দিয়ে আলো সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা দ্রুত জেনারেটর চালু করার চেষ্টা করছি। 

রাতের যাত্রীবাহী এ ট্রেনে বাতি ফ্যান না চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাটারির সাহায্যে বাতি জ্বালানো হচ্ছে, ফ্যান বন্ধ আছে। কোথাও কোথাও হয়তো ব্যাটারির সমস্যার কারণে বাতি নিভে যাচ্ছে। তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। 

এপি/এসএ