রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

| ৯ আশ্বিন ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২১:২৩, ১৪ আগস্ট ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবারে শনির দশা— সেই ‘মরা ইঞ্জিন’ টানতে গিয়ে আগুন জ্বলল যাত্রীবাহী ট্রেনে

প্রকাশের সময়: ২১:২৩, ১৪ আগস্ট ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবারে শনির দশা— সেই ‘মরা ইঞ্জিন’ টানতে গিয়ে আগুন জ্বলল যাত্রীবাহী ট্রেনে

বিড়ম্বনা যেন পিছু ছাড়ছে না। সকালে যাত্রী টানতে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ে একটি ইঞ্জিন। ৩০১০ মডেলের সেই ‘ডেড ইঞ্জিন’ টেনে চট্টগ্রাম আনতে গিয়ে বিকেলে আগুন ধরে যায় নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে। সকালে ইঞ্জিন বিকল আর বিকেলে ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী ট্রেনে নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সকালে বিকল হয়ে পড়া ইঞ্জিন আনার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে লোকোমাস্টার, সহকারী লোকোমাস্টার ও গার্ডের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় এতে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। 

রেলওয়ে সূত্র জানায়— রোববার সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ৩০১০ মডেলের ইঞ্জিন নিয়ে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সাগরিকা এক্সপ্রেস। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেনটি লাকসাম স্টেশনে পৌঁছালে ৩০১০ মডেলের ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে পড়ে। প্রায় একঘন্টা পর অন্য একটি ইঞ্জিন লাগিয়ে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ট্রেনটি। 

এদিকে লাকসামে বিকল ইঞ্জিনটি চট্টগ্রাম আনার জন্য সংযুক্ত করে দেওয়া হয় নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে। কিন্তু বিকেলে চট্টগ্রামে আসার পথে কুমিল্লা নাঙ্গলকোট স্টেশনের আউটারে নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসে ট্রেনের ইঞ্জিনেও আগুন ধরে যায়। এসময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ায় বেকাদায় পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি। আগুনের জেরে ট্রেন চলাচলে শঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় ট্রেনটি লাকসাম স্টেশনে প্রায় এক ঘন্টা আটকে ছিল। পরে অনিশ্চিয়তা কাটিয়ে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আনসার আলী মহানগর নিউজকে বলেন, নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে ছোট আগুন লাগার খবর পেয়েছি। তবে এতে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে।

তবে চলতি পথে ‘৩০০০ সিরিজের’ সেই লোকোমোটিভ যাত্রাপথে হরহামেশা বিকল হয়ে পড়ায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গেল ২৫ জুলাই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন ও ১০-১২ জন রেলওয়ে কর্মকর্তাদের নিয়ে বিকল হয়ে যায় ট্রেনের সেই ৩০০০ সিরিজের একটি ইঞ্জিন। এ কারণে সেদিন ট্রেনটির গন্তব্যে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টা দেরি হয়।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ২৫ জুলাই রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ট্রেনে রেখে হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে ৩০০৫ মডেলের ইঞ্জিনটিও। একইভাবে ২৬ জুলাই ৩০০৬ সিরিজের ইঞ্জিন নিয়ে যাত্রা পথে বিকল হয়ে পড়ে সাগরিকা এক্সপ্রেস। সবশেষ ১৪ আগস্ট চাঁদপুরে যাত্রী নেওয়ার পথে বিকল হয় ৩০১০ মডেলের ইঞ্জিন।

এর আগে ১ মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ‘রাজকীয়’ ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ৩০১৬ সিরিয়ালের ইঞ্জিনটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। এসময় যাত্রাপথে প্রায় দেড়ঘণ্টা আটকে ছিল ট্রেনটি। তারও আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ৩০১১ সিরিজের ইঞ্জিনটি যাত্রাপথে বিকল হয়ে পড়ে। যাত্রাপথে এভাবে একের পর এক নতুন ইঞ্জিন বিকলের ঘটনায় ভোগান্তি ও অসন্তোষ বাড়ছে যাত্রীদের মধ্যে।

এদিকে নতুন ইঞ্জিন বারবার বিকলের বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে ফোনকল রিসিভ করেননি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই) জাহিদ হাসান। যে কারণে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এপি/এসএ