শনিবার ২৫ জুন ২০২২

| ১০ আষাঢ় ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৬:৫০, ২৩ জুন ২০২২

চবি প্রতিনিধি

ছাত্রলীগের চিকায় ‘পাল্টে গেছে’ হলের নাম!

প্রকাশের সময়: ১৬:৫০, ২৩ জুন ২০২২

চবি প্রতিনিধি

ছাত্রলীগের চিকায় ‘পাল্টে গেছে’ হলের নাম!

স্যার এ এফ রহমান। একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি উপাচার্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে রয়েছে একটি আবাসিক হল। তার স্মৃতিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও (চবি) রয়েছে একটি আবাসিক হল। 

খাতা-কলমে হলটির নাম স্যার এ এফ রহমান হল হলেও যে কেউ দেখলে মনে করতে পারেন এটি 'বিজয় হল'। দেয়ালজুড়ে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়ের চিকায় পাল্টে গেছে এ হলের চেহারা। যার ফলে গ্রুপভিত্তিক রাজনীতির নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে আছে চারতলা উঁচু লাল দালানের এ এফ রহমান হলটি। আর ধীরে ধীরে হল থেকে মুছে যাচ্ছে স্যার এ এফ রহমানের নাম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হলগুলো বর্তমানে দখলে রয়েছে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপগুলোর কাছে। যার ফলে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে হলের বাইরে। অন্যথায় কোনো একটি গ্রুপের অনুসারী হিসেবে হলে উঠতে হয় শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন হলের আসন বরাদ্দ না হওয়ায় তৈরি হয়েছে এমন হল দখলের সংস্কৃতি। 

বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়ের দখলে রয়েছে সর্বোচ্চ তিনটি হল- এ এফ রহমান হল, আলাওল হল এবং সোহরাওয়ার্দী হল, সিক্সটি নাইনের দখলে শাহজালাল হল, সিএফসির দখলে শাহ আমানত হল, এছাড়া শহিদ আব্দুর রব হলে রয়েছেন বাংলার মুখ, ভিএক্স ও কনকর্ডসহ কয়েকটি গ্রুপের অনুসারীরা। সূর্যসেন হলে রয়েছে এপিটাফ গ্রুপের অনুসারীরা। বছরের বিভিন্ন সময় বগিভিত্তিক গ্রুপগুলো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় চিকা মেরে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের চিত্রটা ভিন্ন। পুরো হলজুড়ে চিকা মারায় পাল্টে গেছে হলের আসল রুপটাই। 

আর এর ফলে ভবনটি প্রথম কেউ দেখলে বিজয় হল ধরে নিয়ে ভুল বুঝতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই আসেন এই ক্যাম্পাসে। আর হলটির সামনে এসে তারা এ এফ রহমান হলকে দেখেন রঙচঙে বিজয় হল হিসেবে। বাইরের মানুষ নয়, খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাঝে মাঝে দোদুল্যমান অবস্থায় পড়ে যান এই হলের নাম নিয়ে। বিশেষ করে নতুন শিক্ষার্থীরা এই সমস্যায় পড়ে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে এই চিকা মুছে হলটির সঠিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব বলেন, প্রথমদিন এসে ভেবেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চবিতেও বিজয় ৭১ হল রয়েছে। পরে জানতে পারি এখানে ছাত্রলীগের 'বিজয়' গ্রুপের অনুসারীরা থাকে বলেই হলটির চিত্র এমন।  

ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফ উদ্দিন রুহান বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী হওয়ায় আবাসিক হলে ঢুকতেই ভয় লাগে। পড়াশোনার চেয়ে এখানে রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর চর্চাই বেশি হয়। হলগুলোতে একবার ঘুরে আসলেই বোঝা যায় এখানে কোন গ্রুপের আধিপত্য রয়েছে। সবসময় মনে হয়, এই বুঝি মারামারি লাগল! 

বিজয় গ্রুপের নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন, শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক রাজনীতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আগে থেকে চর্চা হয়ে আসছে। আমরা বগিভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে নই, তবুও হলগুলোর দেয়ালে কর্মীরা হয়ত তাদের আবেগ থেকে চিকা মারে। সেটা শুধু আমাদের গ্রুপ না, প্রতিটি গ্রুপের কর্মীরা এটা করে থাকে। যদি এফ রহমান হলের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকে সেক্ষেত্রে বিষয়টা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের পক্ষে কাজ করেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, বিষয়টা আমাদের চোখে পড়ার পর আমরা প্রশাসনকে বলেছিলাম বগিভিত্তিক সংগঠনগুলোর চিকা মুছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রশাসন এতদিনেও কেন এ বিষয়ে নীরব, এটা আমারও প্রশ্ন। যেহেতু বগিভিত্তিক সংগঠন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নিষিদ্ধ, তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করতে পারি না আমরা।

এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কাজী এসএম খসরুল আলম কুদ্দুসী বলেন, বছরখানেক আগে আমরা যখন পুরো হলটি পরিষ্কার করলাম। এর পরদিনই হলের দেয়ালে চিকাগুলো মারা হয়েছে। এটা আমার কাছেও ভালো লাগেনি। যেহেতু এখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর চিকা মারা হয়েছে, তাই তাদের নেতাদেরও বিষয়টি দেখা উচিৎ। এছাড়া আমি একা চাইলে তো হবে না, প্রশাসনেরও সহযোগিতা প্রয়োজন চিকা অপসারণ করতে হলে। সর্বোপরি হলের সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।

আইআই/জেডএইচ