শনিবার ২৫ জুন ২০২২

| ১০ আষাঢ় ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
২২:০৪, ২২ জুন ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাহাড় ভেঙে পড়ছে বায়েজিদ বাইপাস সড়কে, জানে না কর্তৃপক্ষ 

প্রকাশের সময়: ২২:০৪, ২২ জুন ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাহাড় ভেঙে পড়ছে বায়েজিদ বাইপাস সড়কে, জানে না কর্তৃপক্ষ 

দুইপাশে পাহাড়, তার মধ্য গড়া হয়েছে মনোরম সৌন্দর্যে ঘেরা বায়েজিদ বাইপাস সড়ক। বায়েজিদের আরেফিন নগর থেকে ফৌজদারহাটের বাংলাবাজার এলাকা সংযুক্ত করেছে এ সড়ক। তবে নিয়ম না মেনে পাহাড় কাটায় সড়কটিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি। গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টিতে সড়কটির পাশের পাহাড় ধসে পড়েছে, যা জানে না খোদ সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষই।

বুধবার (২২ জুন) বায়েজিদ বাইপাস সড়ক সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, ভারী যানের পাশাপাশি সড়কটি ব্যস্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ঘুরতে আসা পর্যটকদের ব্যক্তিগত গাড়িতে। দুই পাশে সবুজে ঘেরা পাহাড়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, পাহাড়ের উপর দিকের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। ভাঙা অংশের মাটি পড়ে আছে রাস্তার পাশে। বিশেষ করে ছয় নম্বর কালভার্টের পূর্বে বড়ইতলী এলাকার দক্ষিণে একটি পাহাড় ও পশ্চিমে চারটি পাহাড় ভেঙে পড়েছে। এছাড়া জালালাবাদ মাদ্রাসা ও আরেফিন নগরের মাঝামাঝি রাস্তায় একটি পাহাড়ে বড় রকমের ধস দেখা গেছে। 

বড়ইতলী এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি খাবারের দোকান, যার অবস্থান সড়কটির দক্ষিণে। জানা যায়, এ রেস্টুরেন্টটিসহ তার পশ্চিমে যে জায়গা খালি পড়ে আছে সেগুলো একসময় পাহাড় ও লেক ছিল। পাহাড় কেটে লেকটিতে মাটি ফেলা হয়। এতে জায়গাটি সমতল হয়ে যায়। জায়গাটি চারটি প্লটে বিক্রি করা হয়। এরমধ্যে মাঝের দুটি প্লট জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি কেনেন। আর পশ্চিমের প্লটটি কেনেন মো. ফারুক। 

মো. ফারুক বলেন, জায়গাটি আমি দুই বছর আগে ছয় লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। তখন বায়েজিদ থানার দীপংকর নামের এক এসআইয়ের (উপ-পরিদর্শক) কাছ থেকে জায়গাটির দখলস্বত্ব নিয়েছিলাম। জমি বিক্রির দুই মাসের মাথায় তিনি কক্সবাজারে বদলি হয়ে যান। এখন এ জমির দাম ১০ লাখ টাকা। 

ফারুকের ঘরে গিয়ে তার জায়গাটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঘরের পশ্চিম অংশে মাটি ভেঙে পড়ছে। পাহাড় থেকে পানি বেয়ে পড়ছে। তিনি পানি ব্যবস্থাপনায় মাটি কেটে একটি ছোট নালা তৈরি করেছেন। পাহাড় ধসে পড়ার ঝুঁকি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাহাড় এমনিতে ভেঙে পড়ে না। আমরা প্রথমদিকে পাহাড়টার কিছু অংশ কেটেছিলাম। এরপর আর কাটতে হয়নি। এখন একটু একটু করে ভেঙে পড়ছে। একসময় সমান হয়ে যাবে।

বায়েজিদ বাইপাস সড়কে পাহাড় ভেঙে পড়া প্রসঙ্গে কথা হয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা এ বাইপাস রোডের পাহাড়গুলোকে ঠিক করার জন্য পরিবেশ অধিদফতরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা পুরো ড্রাই সিজনে (শুষ্ক মৌসুমে) আমাদের অনুমোদন দেয় নাই। এখন অনুমোদন পেলেও কাজ করতে পারব না। তবে ওই রোডে এখনও কোনো পাহাড় ধসের ঘটনা শুনিনি। খবর পেলে অবশ্যই পরিদর্শনে যেতাম ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতাম।

এসবি/জেডএইচ