শনিবার ২৫ জুন ২০২২

| ১০ আষাঢ় ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৪:৩৩, ৫ মে ২০২২

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

এসিড মেরে প্রেমিকার চোখ-মুখসহ অর্ধেক শরীর ঝলসে দিল প্রেমিক

প্রকাশের সময়: ১৪:৩৩, ৫ মে ২০২২

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

এসিড মেরে প্রেমিকার চোখ-মুখসহ অর্ধেক শরীর ঝলসে দিল প্রেমিক

গ্রেফতার এসিড নিক্ষেপকারী মো. আজিম

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নে রাতে আঁধারে ইয়াছমিন আকতার (২০) নামের এক তরুণীকে এসিড নিক্ষেপ করেছে মো. আজিম (৩০)। এতে ওই তরুণীর চোখ, মুখসহ শরীরের অর্ধেক অংশ ঝলসে গেছে। 

ইয়াছমিন আকতার একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডিঙ্গললোঙ্গো এলাকার আবুল বাশারের মেয়ে। এ ঘটনায় ইয়াছমিন আকতারের ভাই আবু তাহের বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া থানায় মো. আজিমকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।  

বৃহস্পতিবার (৫ মে) ভোরে অভিযান চালিয়ে মো. আজিমকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামি মো. আজিম (৩০) রাঙামাটি জেলার চন্দ্রঘোনা থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ড খন্তাকাটা এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে। পেশায় সে সিএনজি অটোরিকশা চালক বলে জানা গেছে। 

মামলার বাদী ইয়াছমিনের ভাই আবু তাহের বলেন, রাত ২ টার দিকে হঠাৎ ইয়াছমিনের চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখি তার শরীরের অর্ধেক ঝলসে গেছে। তার এই অবস্থা কে করেছে জানতে চাইলে ইয়াছমিন জানায়, আজিম জানালা দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে গেছে। তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দিলে তাদের সহযোগিতায় ইয়াছমিনকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চন্দ্রঘোনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। তার অবস্থা গুরুত্বর দেখে সেখানকার চিকিৎসকরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোনের সুন্দর জীবন নষ্ট করেছে আজিম। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। যেন এভাবে কোনো মেয়ের জীবন ধ্বংস না হয়।’

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব মিলকী বলেন, ‘রাত আনুমানিক ৩ টার সময় থানায় একটি কল আসে। ঘটনা সম্পর্কে যেনে দ্রুত একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠাই। গিয়ে দেখা যায় ইয়াছমিন আকতার (২০) নামে এক তরুণীকে এসিড নিক্ষেপ করা হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চদ্রঘোনা একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায়  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, জানা গেছে, ‘ইয়াছমিন আকতারের সাথে আসামি আজিমের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে ইয়াছমিন জানতে পারে আজিম বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। তারপর থেকে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ঘটনার দিন রাতে ইয়াছমিনের বাড়ির জানালা দিয়ে আলাপ করার একপর্যায়ে হঠাৎ তার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে আজিম পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইয়াছমিন আকতারের ভাই আবু তাহের বাদী হয়ে থানায় মো. আজিমকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করলে চন্দ্রঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এআই