সোমবার ১৫ আগস্ট ২০২২

| ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৭:১০, ২৪ জুন ২০২২

কক্সবাজার প্রতিনিধি

টিউমারের পরিবর্তে নারীর পেটে মিলল ‘ব্যান্ডেজ’

প্রকাশের সময়: ১৭:১০, ২৪ জুন ২০২২

কক্সবাজার প্রতিনিধি

টিউমারের পরিবর্তে নারীর পেটে মিলল ‘ব্যান্ডেজ’

আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদন অনুযায়ী এক নারীর পেটে টিউমার রয়েছে। চিকিৎসক তাকে দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাতে অপারেশনে পেটে টিউমারের পরিবর্তে মিলল ‘ব্যান্ডেজ’।

ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার শহরের ফুয়াল আল খতিব হাসপাতালে। এরপর বের হয়ে আসে ওই নারীর পেটে ব্যান্ডেজ থাকার রহস্য। 

জানা গেছে, শহরের বেসরকারি ‘জেনারেল হাসপাতালে’ ৭ মাস আগে সুফিয়া আকতার (২৮) নামের ওই গর্ভবতী নারীকে সিজার করেন গাইনী রোগের চিকিৎসক ডা. তাজিনা শারমিন। সিজারের সময় পেটে ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেন তিনি। সেই ব্যান্ডেজই বৃহস্পতিবার অপারেশন করে বের করেন ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের ডা. শাহ আলম। এই ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী উখিয়ার রত্নপালং ইউনিয়নের তেলীপাড়া এলাকার জিয়াউদ্দিনের স্ত্রী।

সুফিয়ার ভাগিনা সাইমুম উদ্দিন নয়ন বলেন, ৭ মাস আগে আমার খালা সুফিয়াকে সিজার করেন জেনারেল হাসপাতালের ডা. তাজিনা শারমিন। পরে ১৫ দিন পর ওই নবজাতক মারা যায়। এরপর গত দু’মাস আগে হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। ব্যথা বেড়ে গেলে প্রথমে উখিয়ার কোটবাজারের ওরিয়ন হাসপাতালে ডা. সামিয়াকে দেখানো হয়। এসময় সামিয়া ডা. শাহ আলমের কাছে রেফার করেন৷ কিন্তু তারা ডা. শাহ আলমকে না দেখিয়ে ডা. তাজিনা শারমিনের কাছে নিয়ে যান। ডা. তাজিনা শারমিন রক্ত জমাট বেঁধেছে দাবি করে ১ মাসের ওষুধ দেন খালাকে। সেই ওষুধ সেবন করার পরও সুস্থ না হওয়ায় ফের ডা. জাজিনা শারমিনকে দেখানো হয়।

এবার ডা. তাজিনা শারমিন আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য ডা. ওসমানুর রশিদের কাছে রেফার করেন। সেই আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট দেখে ডা. তাজিনা শারমিন ধারণা করেন তার পেটে টিউমার হয়েছে এবং সেটি দ্রুত অপারেশন করে বের করতে হবে।

এর মধ্যে তাজিনা শারমিনের প্রতি আস্থা হারিয়ে তারা ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে ডা. শাহ আলমের কাছে যান। পরে তার পরামর্শ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বিকেলে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে অপারেশন করে পেট থেকে টিউমারের পরিবর্তে বের করেন ব্যান্ডেজ।

সাইমুম উদ্দিন নয়ন জানান, ব্যান্ডেজ পচে পেটে ইনফেকশন হয়েছে বলে চিকিৎসক তাদেরকে জানিয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক তাজিনা শারমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান নয়ন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ডা. তাজিনা শারমিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রোগীর পক্ষ থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। যোগাযোগ করলে অবশ্যই আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতাম।’

কিন্তু দুই মাস আগে রক্ত জমাট বেঁধেছে ধারণা করে ওষুধ দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. তাজিনা ফোন কেটে দেন।

রোগীর স্বজন নয়ন আরও জানান, ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন করে বের করা ব্যান্ডেজ প্রথমে রোগীর স্বজনদের দেখালেও পরে গায়েব করে ফেলে। তবে ওই সময় তিনি ব্যান্ডেজের ভিডিও চিত্র ধারণ করে নেন। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যান্ডেজটি ক্লিনাররা ফেলে দিয়েছেন বলে দাবি করছে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এআই