শুক্রবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

| ২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৮:০৩, ২৯ আগস্ট ২০২২

কক্সবাজার প্রতিনিধি

তদন্তে গাফলতি ও অবহেলা—ওসি মাঈনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ

প্রকাশের সময়: ১৮:০৩, ২৯ আগস্ট ২০২২

কক্সবাজার প্রতিনিধি

তদন্তে গাফলতি ও অবহেলা—ওসি মাঈনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ

তদন্তে গাফলতি ও অবহেলা এবং আদালতে ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগপত্র দাখিল করায় কক্সবাজার সদর থানার সাবেক ইন্সপেক্টর (অপারেশনস্) মো. মাঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।  

মাঈন বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে একটি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার অভিযোগপত্রে নানা ত্রুটি ও তদন্ত কর্মকর্তা ওসি মাঈন উদ্দিনের গাফলতি দেখে কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী এ আদেশ দেন। আদেশের কপি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে। 

এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর থানার তৎকালীন এসআই রাজীব কান্তি নাথ বাদী হয়ে ৩ জন আটক এবং ৩ জন পলাতক আসামির নাম উল্লেখ করে ১২/১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা করেন। 

ওই মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলীর ইউসুলের ঘোনার মৃত আবদুর রশিদ ড্রাইভারের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত (২৩), ঈদগাঁওয়ের শিয়াপাড়ার সৈয়দ হোসেনের ছেলে মো. আবু নাসের (২৮), সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের লারপাড়ার আহমদ ছফার ছেলে মো. রোহেল (২১)। এছাড়া পলাতক হিসেবে ওই মামলার এজাহারে থাকা অন্য তিন আসামিরা হলেন, পাহাড়তলীর ইউসুলের ঘোনার মৃত আবদুর রশিদ ড্রাইভারের ছেলে ওয়াসিম (৩০), একই এলাকার নেজামের ছেলে পেঠান এবং দক্ষিণ পাহাড়তলীর মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ছেলে আবদুর রহিম (৩০)। পরে সদর থানার তৎকালীন ওসি (অপরাশেনস্) মো. মাঈন উদ্দিন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে এজাহার নামীয় ৬ আসামিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর আদালতে দাখিল করেন। 

অভিযোগ শুনানিকালে আদালতের পর্যবেক্ষণ মতে, এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও যে ৬ জনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরা ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে কোনো বক্তব্য তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদান করেননি। এমনকি ওই ৬ জনের নামও সাক্ষীরা তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রকাশ করেননি। তাছাড়া এস.আই মো. আবদুর রহিমকে অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে রাখা হলেও ১৬১ ধারায় তার কোনো জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়নি। এসময় আদালত অভিযোগপত্রে ও তদন্তে আরও ত্রুটি লক্ষ্য করেন। 

পর্যাবেক্ষণে আরও রয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে চরম অবহেলা ও গাফিলতি প্রদর্শন করেছেন। তিনি কেন এবং কীভাবে ৬ জন আসামিকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্তি করেছেন তা আদালতের নিকট বোধগম্য হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তার এ ধরণের কার্যক্রম কাম্য নয়। তার এ ধরণের অবহেলা, ত্রুটি ও বিচ্যুতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসা আবশ্যক মনে করেছেন আদালত। 

এ বিষয়ে কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আশেক ইলাহী শাহাজাহান নূরী বলেন, অভিযোগপত্র বিশ্লেষণ করে আদালত এজাহারনামীয় ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করলেও বাকি আসামিদেরকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন। 

তিনি আরও বলেন, তদন্তে গাফলতি, অবেহেলা এবং নানা ত্রুটিতে ভরপুর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিনের (ইন্সপেক্টর) বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী। আদেশের কপি আইজিপিকে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ইন্সপেক্টর ও ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালের সেই অভিযোগপত্রের সাক্ষীদের ১৬১ ধারার জবানবন্দীতে কি রয়েছে সেটা আমার মনে নেই। আদালতের আদেশের বিয়টি আমার জানা নেই।

এআই