রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

| ৯ আশ্বিন ১৪২৯

KSRM
মহানগর নিউজ :: Mohanagar News

প্রকাশের সময়:
১৪:০১, ৩০ জুন ২০২২

জাহেদুল ইসলাম আরিফ, রাঙ্গুনিয়া

টুং টাং শব্দে মুখরিত রাঙ্গুনিয়ার কামারপাড়া 

প্রকাশের সময়: ১৪:০১, ৩০ জুন ২০২২

জাহেদুল ইসলাম আরিফ, রাঙ্গুনিয়া

টুং টাং শব্দে মুখরিত রাঙ্গুনিয়ার কামারপাড়া 

পবিত্র ঈদ উল আযহাকে সামনে রেখে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর টুং-টাং শব্দে মুখরিত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কামারপাড়া। সকাল থেকে রাত অব্দি চলছে নতুন-পুরাতন দা-বটি ছুরি, চাপাতি তৈরি বা শাণ দেওয়ার কাজ। এ উপলক্ষে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের। সারাদিন তপ্ত ইস্পাত গলিয়ে চলছে নতুন দা, বটি ও ছুরি তৈরির কাজে। দম ফেলারও সময় নেই তাদের। 

ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে এ বছর প্রতি পিস চাকু ২০০-২৫০ টাকা, দা ৩০০-৬০০ টাকা, ৬০০ টাকা কেজি দরে চাপাতি, জবাই ছুরি ৭০০-১১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পুরনোসব যন্ত্রপাতি শান দিতে গুনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। সারা বছর তেমন কাজ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পূর্বপুরুষের এই পেশা পরিবর্তন করছে বলে জানা জানান।

উপজেলার শান্তিরহাট, গোচরা, ইছাখালী, রোয়াজারহাট, মরিয়ম নগর, চন্দ্রঘোনা, উত্তর রাঙ্গুনিয়া ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়েকদিন ধরে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের। অনেকেই নতুন দা-বটি-ছুরি ও চাপাতি কিনছেন। আবার কেউ কেউ পুরাতনগুলোতে শাণ দিয়ে নিচ্ছেন। অনেক কামার বাড়তি চাপ সামাল দিতে না পেরে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। 

মরিয়ম নগর বাজারের সমুনাথ দাশ নামের এক দোকানী জানান, কোরবানির ঈদ আসলেই কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই বিক্রির আশায় অনেক মালামাল আগেই বানিয়ে রেখেছি।

চন্দ্রঘোনা বাজারের সবুজ কর্মকার বলেন, বছরের অন্য সময়গুলোতে টুকটাক কাজ থাকে। কোরবানিকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন যাবত কাজের চাপ কিছুটা বেড়েছে। এজন্য নিয়মিত দুজন কর্মচারীর পাশাপাশি আরও তিন কর্মচারী নিয়োগ করেছি। এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চলে। 

অন্যান্যবারের চেয়ে এখনও কাজ কম হচ্ছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাকি দিনগুলোতে কাজ আরও বাড়বে।

রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকার ছোটবড় প্রায় শতাধিক কামারের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। কারিগরদের ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে দা, ছুরি, চাপাতি তৈরিতে। 

কথা হয় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে। তারা জানান, এই পেশায় আর আগের মতো লাভ নেই। তারপরও বাপ-দাদার এই পেশা ধরে রেখেছি। কোরবানির ঈদ এলেই ব্যবসাটা একটু ভালো হয়। 

এআই